স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন জরুরী : আব্দুল কাইয়ুম খান
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডাক্তারদের রোগী দেখার ফি, কর্মঘণ্টা ও সেবার মান নির্ধারণ এবং বেসরকারি চেম্বার নীতিমালা প্রণয়নের আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল বাইয়ুম খান। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বরাবরে তিনি লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ফলে কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি বসবাস করে। ডাক্তারি একটি মহৎ পেশা। পৃথিবীর সব দেশেই ডাক্তারদের সম্মান করা হয়। আর্থিক সামর্থ্যবান কিছু মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিলেও, দেশের ৯৫% মানুষ বাংলাদেশের ডাক্তারদের উপরই নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, এদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে যারা ডাক্তার হন, তারা জনগণের করের টাকায় পড়াশোনা করেন। তাই এদেশের মানুষের প্রতি তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ ডাক্তার এখন টাকা ইনকামের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
নামকরা কিছু ডাক্তার মাসে কোটি টাকা আয় করলেও আয়কর বিবরণীতে দেখান মাত্র ৫ লাখ টাকা। ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে রোগী দেখেন, তারপর নামমাত্র হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে আবার চেম্বারে ছোটেন।
রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত রোগী দেখে বাসায় ফেরেন। বর্তমানে চেম্বারে রোগীর ভিজিট ১৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। তার উপর সিরিয়াল পেতে ১-২ মাস লেগে যায়।
জনস্বার্থে আমার সুনির্দিষ্ট ১০ দফা প্রস্তাব করেছেন। এগুলো হলো- ডাক্তারের ভিজিট নির্ধারণ, প্রফেসর সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা প্রতি রোগী। সহযোগী অধ্যাপক সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা প্রতি রোগী। সহকারী অধ্যাপক/মেডিকেল অফিসার সর্বোচ্চ ২০০ টাকা প্রতি রোগী। রোগী তার পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টেস্ট করাবে।
কোনো ডাক্তার নির্দিষ্ট ক্লিনিকের নাম বলতে পারবেন না। রিপোর্ট দেখার জন্য কোনো ডাক্তার অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবেন না। একজন রোগীকে ডাক্তার কমপক্ষে ৫ মিনিট সময় দিয়ে দেখবেন। একই সময়ে চেম্বারে একাধিক রোগী প্রবেশ করানো যাবে না। সরকারি হাসপাতালে ডিউটি: সকল ডাক্তারকে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হবে এবং ৮ ঘণ্টা ডিউটি নিশ্চিত করতে হবে।
ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি নিষিদ্ধ: রোগী দেখার সময় চেম্বারে কোনো ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি প্রবেশ করতে পারবে না। সরকারি ঔষধ সরবরাহ: প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়গুলো নীতিমালা আকারে জারি করে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শতভাগ না হলেও অনেকাংশে জনবান্ধব হবে।
আ.দৈ/আরএস





















