পারমিটের বাইরে মদ বিক্রি করলেই প্রতিষ্ঠান সিলগালা
শুরু হচ্ছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি আরো কঠোর হচ্ছে। আগামী ১ মে থেকে শুরু হচ্ছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান। হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে রাজধানীর অবৈধ ১৮টি বার চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা।
পাশাপাশি পারমিট ছাড়া মদ্যপান করলে তাৎক্ষণিক জেল দেওয়ার জন্য অভিযানে সঙ্গে রাখা হবে ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া রাতের রানীদের ধরতে মাঠে নামছে মহিলা পুলিশের একাধিক টিম। পারমিট ধারীদের বাইরে কোন বার মদ বিক্রি করলে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করবে ট্রাস্কফোর্স। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, রাত ১২টার পর কোর বার খোলা রাখতে পারবে না, পারমিটধধারীর বাহিরে কাউকে ঢুকতে দিতে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাদকদ্রব্য অনুবিভাগ ও পুলিশ অনুবিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে।
এদিকে রাজধানীতে যেসব বৈধ বার রয়েছে সেগুলোতে কোন পারমিট যাচাই বাছাই করা হয়না। যে যার মত অর্ডার দিলেই পায় কাঙ্খিত মদ বা বিয়ার। এছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও উঠতি বয়সি তরুন ও যুবকদের আনাগোনা বেশি থাকে এসব বারে। বারের আসন সংখ্যা অনুযায়ি পারমিট দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়না।
ব্যবসার প্রসার ঘটাতে রাজধানীর বার মালিকরা সরকারের এসব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেনা। তবে এবার সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে একাধিক বার সিলগালা করা হতে পারে। পাশাপাশি পারমিট ছাড়া মদ্যপানে জেল জরিমানা গুনতে হবে মদ্যপায়ীদের।
অপরদিকে সোমবার সংসদের বৈঠকে ’অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা’- শীর্ষক নোটিশ উত্থাপন করে বিএনপি দলীয় সদস্য নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, রাত হলেই বুনো উল্লাস, দমে না সিসা লাউঞ্জ। রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে উঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বারবার অভিযান চালানো হলেও বন্ধ হচ্ছে না। কেউ কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে। কেউ কেউ প্রশাসনের কিছু ইঙ্গিতে চালাচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার জাতির কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছে। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।
অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আ.দৈ/আরএস





















