চলছে রমরমা ব্যবসা
হাসপাতালের নিচে মদের বার
বিশেষ প্রতিনিধি

বাইরে থেকে মনে হবে বিশাল একটি হাসপাতাল। সাইনবোর্ডও লাগানো আছে। হাসপাতাল আছে উপরে আর নিচে চলছে মদের বিকিকিনি, রয়েছে বার। ডমিনাস পিজা লিমিটিডে-ডিপিএল নামের এ মদের বারটি রাজধানীর গ্রীনরোডে অবস্থিত। ১৪৭/এ/১ হোল্ডিংয়ে ৯ তলা ভবনের দোতলায় ডিপিএল বার।
আর চার থেকে সাত তলা পর্যন্ত রয়েছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতাল। একই ভবনে কিভাবে হাসপাতাল ও মদের বার পরিচালনা করা হচ্ছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বার কর্তৃপক্ষের দাবি তারা বৈধভাবেই বার পরিচালনা করছেন। তবে যাদের দেখার কথা অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে চুপ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই নিচতলায় মদ, বিয়ার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সিকিউরিটি গার্ডদের টাকা দিলেই মিলছে কাঙ্খিত মদ ও বিয়ার। দুপুরের পর সরগরম হতে শুরু করে দোতলা। ক্রমেই বাড়তে থাকে কাস্টমারদের ভীড়। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মনে হয় বাজারে কেনাকাটা করতে আসছে মানুষ।
একেক গ্রুপ মদপানের পর বেরিয়ে রাস্তায় মাস্তি করছে। পাশেই রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি অফিসসহ আবাসিক ভবন। প্রতিদিনের এ চিত্র দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন স্থানীয়রা। বারের মালিক প্রভাবশালী বলে কেউ এর প্রতিবাদ করেনা।
আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা গত দুই বছর ধরে এই ভবনে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। যখন ভবন ভাড়া নেয়া হয়েছিল তখন তারা জানতেন না নিচে বার রয়েছে। তবে বিষয়টি অনৈতিক বলে জানান তারা। এদিকে স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে ওই ভবনের সামনে দিয়েই যাতায়াত করেন। বার থেকে যারা বের হয় প্রায় সকলের অবস্থা খুবই আপত্তিজনক। একজন আরেকজনকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া মেয়ে শিক্ষার্র্থীরা খুবই ভয়ে থাকে। উঠতি বয়সি যুবকদের এমন বেলেল্লাপনায় সকলেই হতবাক। অবিলম্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এখান থেকে বার সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, ওই বারের বিষয়ে তদন্ত চলছে। বার আগে না হাসপাতাল আগে ছিল তা দেকতে হবে। তবে একই ভবনে হাসপাতাল ও বার বিষয়টা বিব্রতকর। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মদের বার কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায় বারের মালিক কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার ম্যানেজার নুরুজ্জামানকে ফোন করলে তিনি বলেন, এই বারের সঙ্গে এখন আর তার সম্পর্ক নেই। যারা দায়িত্বে আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
আ.দৈ/আরএস





















