শেরপুর নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুললেন জামায়াত আমির
নিজেস্ব প্রতিবেদক

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ সন্ত্রাস হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কথা থাকাকালে তখনো এ আসনে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের এক নেতা নিহত হন।’
শনিবার (১০ এপ্রিল) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।এর আগে নির্বাচনের সময় সংঘর্ষে আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলামকে দেখতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালে যান জামায়াত আমির। এ সময় সিরাজুল ইসলামের শারীরিক অবস্থান খোঁজখবর নেন তিনি।
এ সময় জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। জনগণের অধিকার আদায়ে জামায়াত একচুলও ছাড় দেবে না।
সংসদের ভেতরে এবং বাইরে প্রতিবাদ জারি করা হবে।’তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে এত রক্ত দেওয়ার পর রাজনীতিতে এত সহিংসতা কেন। আমরা তো আশা করেছিলাম রক্ত দেওয়া তখনই শেষ। রাজনীতির ময়দানে ভালো পরিবেশ ফিরে আসবে।
রাজনীতিতে মুখ চলবে, হাত চলবে কেন। আমরা চাই রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই হবে। হাত চলবে না। আর যেন কোনো মা তার সন্তানকে না হারান। কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়।
মানুষ খুন করে যদি পার্লামেন্টে যাওয়া হয়, তাহলে সে সরকারের কাছ থেকে মানুষ কী আশা করতে পারবে। আমরা তো মানুষের জীবন নিয়ে সংসদে যাব না। আমরা যাব মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে।’
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে সংসদ। সে সংসদে টাকা খরচ করে অশ্লীল বাক্য বিনিময় হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধারণ করার অতিরিক্ত রোগীর চিত্রই বলে দেয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবিচার করছে সরকার।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মারা যান। এতে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। পরে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আসনটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের সময় সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম আহত হন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
আ.দৈ/আরএস





















