৬ মাস বয়স থেকে ১০ বছরের সব শিশুকে ২ সপ্তাহ চিহ্নিত ৫টি ওয়ার্ডে টিকা দেওয়া হবে
ডিএনসিসিতে ৫ এপ্রিল ‘হাম রোগ’ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে: প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
আবুল কাশেম:

বর্তমানে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশেই ‘হাম রোগের’প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ কিছু এলাকায় কোমলমতি শিশুদের মৃত্যুর ঝুঁকি বহনকারী ‘হাম রোগের প্রার্দুভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কয়েকটি এলাকায়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘হাম রোগের প্রার্দুভাব প্রবন হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী “আজকের দৈনিক পত্রিকাকে” বলেন,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়াডের মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডে (High Burden Area) ৬ মাস বয়স থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে‘হাম রোগ’প্রতিরোধে জাতীয় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ০৫ এপ্রিল থেকে ০২ সপ্তাহ ব্যাপী ডিএনসিসির ওয়ার্ড নম্বর- ০২, ১৫, ১৯, ২০ এবং ৩৩ এর এলাকায় ‘হাম রোগ’ প্রতিরোধে জাতীয় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় উল্লেখিত ওই ৫টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত ১০টি টিকাদান কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫০০ শিশুকে ‘হাম রোগ’ প্রতিরোধের টিকা প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন,‘হাম রোগের’ প্রার্দুভাব মোকাবেলায় আগামী ০৫ এপ্রিল থেকে পরিচালিত টিকাদান কার্যক্রম সর্ম্পকে নগরবাসীকে অবগত এবং সচেতন করার জন্য ডিএনসিসির Website এ. টেলিভিশন স্কুলে এবং আন্ত:ভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে টিকা প্রদান কার্যক্রম প্রচার করা হবে। এছাড়াও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাকালীন সময়ে সেচ্ছাসেবীগণ বাড়ী বাড়ী পরিদর্শনের মাধ্যমে নগরবাসীকে ‘হামের টিকা প্রদান বিষয়ে অবগত করা হবে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান কার্যক্রম তদারকির জন্য নগর ভবনে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হবে। টিকাদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে টিকাদান সম্পর্কিত কোন জটিলতা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষনিকভাবে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রোগীকে প্রয়োজনে নির্ধারিত হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। টিকাকেন্দ্র সমূহে রোগী পরিবহনের জন্য Ambulance প্রস্তুত রাখা হবে।
তিনি বলেন,‘হাম রোগের’ টিকাদান কেন্দ্রগুলো হচ্ছে,অঞ্চল-০২ এর আওতাধীন ০২ নম্বর ওয়ার্ডের কালশীতে সেকশন-১২, ব্লক-এ, লাইন-০২ মিরপুর-১২ এলাকা। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাষানটেক ও মানিকদী এলাক। অঞ্চল-০৩ এর আওতাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তি, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ৭তালা বস্তি, মাদ্রাসা গলি এবং আইডিএইচ হাসপাতাল এলাকা। এছাড়া অঞ্চল-০৫ এর আওতাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদ উদ্যান এবং চন্দ্রীমা উদ্যান এলাকায় ‘হামর’ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপিল) দুপুরে নগর ভবনে এই টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে এক আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার বিষয়বস্তু ছিল; ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হামের টিকাদান কর্মসূচি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট আঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা,কর্মচারী‘ইপিআই’ টিকাদানের কার্যক্রমে নিয়োজিত জনবল এবং কয়েকটি ‘এনজিও’এর’ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে উদ্বোধ করা।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাঃ মাহমুদা আলী,সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আজিজুন নেছা, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস.এম. ওয়াসিমুল ইসলাম,রাড্ডা হেলথ সেন্টারের সহকারী পরিচালক (এডি) ডা. নাসরীন আক্তার,আরবান প্রজেক্ট ম্যানেজার রেহেনা আক্তার ও ডা. উসাংক পুরী, আলো ক্লিনিকের হেলথ ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম এবং ইপিআই সুপারভাইজারগন।
আ. দৈ./কাশেম




















