বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জনভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা
তেল সংকট না থাকলেও পাম্পে বাইকের দীর্ঘ সারি
ইসমাঈল হুসাইন ইমু
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম   (ভিজিট : ১২২)
X

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এখনো জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তেল সংকট নিয়ে আগের মতো আতঙ্ক না থাকলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় রাজধানীবাসীর ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি। 

দ্রুত তেল সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারের তরফ থেকে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ না থাকলেও দ্রুত তেল সরবরাহ সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিছু পাম্পে সরবরাহ থাকলেও সেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ির সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যানবাহনের প্রবেশ ঠেকাতে পাম্পের মুখে বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে। এদিকে গত ১০ মার্চ রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেলের জন্য সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়। শুরুতে ২ লিটারের সীমা থাকলেও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনেও খোলা রাখা হয় তেলের ডিপো। এরআগে গত শনিবার দেশে জ্বালানি তেল কেনার সীমা রোববার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় দেশেও পেট্রোল-অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর জেরে গত ৬ মার্চ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

এদিকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিংসহ আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক গ্রাহক পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। অনেক পাম্পে কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি দেখা গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষ সবাইকে তেল দিতে পারছেন না।

রাজধানীর শাহবাগে মেঘনা পেট্রল পাম্প, বিজয় স্মরনী এলাকায় ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মতিঝিলের করিম এন্ড সন্সসহ কয়েকটি পাম্পে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ আবার কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানতে পারছেন পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি। 


অপরদিকে পাম্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।

তেলের পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টন। কিন্তু তারা পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টন। একইভাবে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। চাইলেও সবাইকে তেল দিতে পারছেনা তারা। সরবরাহ কম থাকায় অনেক গ্রাহককে তেল না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকরাও অসন্তুষ্ট হচ্ছেন এবং পাম্পে চাপও বাড়ছে।

অন্যদিকে যাত্রবাড়ী এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জানান, তাদের পাম্পে অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন অকটেন ও ডিজেলের প্রায় সাড়ে চার হাজার টন চাহিদা রয়েছে। শুধু ডিজেলের চাহিদাই প্রায় নয় হাজার টনের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১৮ হাজার টন জ্বালানি প্রয়োজন হলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় পাম্পে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যানবাহনকে তেল না দিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চালকদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। অনেক চালক আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার পরিবহনের চালকরা বলছেন, নিয়মিত তেল না পেলে তাদের পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। 

এতে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীতে এ ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এজন্য চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : [email protected]

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝