আজই.দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোমেন ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ
আবুল কাশেম:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এমএ মোমেন, কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান) পদত্যাগ করে আজ মঙ্গলবার বিদায় নিচ্ছে। আজ দুপুর আড়াইটায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য গেছেন। মন্ত্রণালয়ে যাবার সময় দুদকের চেয়ারম্যান প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন সচিবালয় থেকে ঘুরে এসে কথা বলবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক সচিব ড. এমএ মোমেনসহ তার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অপর দুই কমিশিনারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ওইদিনই যোগদান করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পান। এর আগে ড. মোমেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ওই একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ। এর মধ্যে ওই বছর ১১ ডিসেম্বর কমিশনার হিসেবে আলী আকবার আজিজী যোগদান করেন । আর অপর কমিশনার হাফিজ আহসান ফরিদ যোগদান করেন ১৫ ডিসেম্বর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এই দুদক চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনারকে পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
জানা যায়, ফলে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল থেকেই দুদক চেয়াম্যান এবং দুই কমিশনারের পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে আজ প্রতিদিনের মতো আজও দুদক চেয়ারম্যান ড. এম মোমেন এবং অপর দুই কমিণার সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে সকাল থেকেই অফিস করেন। দুদক কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটিসহ দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই স্বাক্ষরও করেন দুদক চেয়ারম্যান।
এদিকে দুদক চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন,একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কমিশনের কাজে কেউ হস্তক্ষেপও করেনি। ড. মোমেন বলেন, দুদক কমিশনারদের পদত্যাগের বিষয়ে নিয়ম হচ্ছে, পদত্যাগ করতে হলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে তা উল্লেখ করে এক মাস আগেই জানাবেন। এখন দেখা যাক প্রকৃতপক্ষে কী হয়।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। বিএনপির নিয়োগ দেওয়া দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান, কমিশনার ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা এবং অডিটর মনিরুদ্দিনকে।
২০০৭ সালে জরুরি সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপি সরকারের নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনারকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান, জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও অডিট বিভাগের মঞ্জুর মান্নানকে কমিশনার নিয়োগ দেয়।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে জরুরি সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন ভেঙে দেয়। তবে চেয়ারম্যান সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করতে তিন মাস সময় পান।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পছন্দের লোকদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়।
আ. দৈ./কাশেম




















