কর্মচারী নেতৃবৃন্দের আইনসম্মত দাবি বাস্তায়নের আশ্বাস ডিএনসিসি প্রশাসকের
সরকারের ভাবমর্য়াদা ক্ষুন্ন হয় এমন কিছু করা যাবে না : শফিকুল ইসলাম
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন,‘টানা ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের জুলুম, নির্যাতন এবং মিথ্যে মামলায় হয়রানীর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে পরিবর্তন এসেছে। দেশের মানুষের আকাঙ্খা ছিল পরিবর্তনের।এখন এই পরিবর্তন ধরে রাখতে হবে। সরকারের ভাবমর্য়াদা ক্ষুন্ন হয় এমন কিছু করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে তার ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার সহযোহিতা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। সবাইকে সকাল ৯ টায় অফিসে আসতে হবে। সরকারি অফিসে বিনা প্রয়োজনে দলীয় লোকজনকে না আসার অনুরোধ জানান’।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবন মিলনায়তে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নসহ অন্যান্য কর্মচারীদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরিচিতি ও মতবিনিময় প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
আজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেঃ জেনাঃ সৈয়দ রকিবুল হাসান. পি.এস.সি, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবীবুল আলম ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান প্রমুখ।
প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান ডিএনসিসিকে একনায়কতন্ত্র ও দলীয় করণ করা হবে। এখানে কোন ধরনের বৈষম্য করা হবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী ভাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আমরা পরিবর্তন করে দেখাবো। তবে ষড়যন্ত্রকারী ও খারাপ লোকজন সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ ২০২৪ সালে এদেশের ছাত্র জনতার সাথে শ্রমিক কর্মচারীসহ সবাই আন্দোলন করেছে বলেই আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে।’ প্রশাসক বলেন, ‘শ্রমিক কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে যৌক্তিক এবং আইনসম্মত হলে অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে বাস্তায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
প্রশাসক আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনে আর কোনো কাজ হবে না। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি। আমরা শহরের লোকজনের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি।’
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নিজ নিজ কাজে মনোযোগী হতে হবে। সবাইকে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। যে কোনো সময়ে আমাকে কাছে পাবেন। আমরা সবাই মিলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।’
এরআগে পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশনার আলোকে সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বুলেট। পরিবহন চালক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন,পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সংগঠন স্ক্যভেঞ্জার এন্ড ওয়ার্কর্স ইউনিয়নের সভাপতি জিয়ার উর রহমান। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক শাহ আলম রাজা ও সদস্য সচিব মো. কামরুল জামানক।
আ. দৈ./কাশেম




















