ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ৫ জনের বিচার হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে
রামপুরায় পুলিশের গুলিতে কার্নিশে ঝুলন্ত লাশ মামলার রায় ৪ মার্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের একপর্যায়ে ২০২৪ সালে জুলাই–- আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকে আমির হোসেনের নামে এক কিশোরের লাশ। ওই বছর ১৯ জুলাই দুপুরে একই রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলামকে গুলি করা হয়।এই হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষ। এই মামলায় আগামী ৪ মার্চ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেলে এই মামলায় আদেশের দিন নির্ধারণ করেন। এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন; ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান,খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান, সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এদের মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়,গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওইদিন এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। তারও আগে, গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওইদিন মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।
মামলার যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারাদেশের মতো রামপুরায়ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিরস্ত্র আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ।
এছাড়া আরও দুজনকে শহীদ করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে এ মামলার পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলায় ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে একই বছরের ৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। গত ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আমির হোসেন জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছে তখন সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় পুলিশ গুলি শুরু করে। আমির হোসেন দৌড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ ভবনটির চারতলায় ওঠে। সেখানে আমির হোসেনকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য তাকে ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও করেন। ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো আমিরের দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে আমির হোসেন ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে আমির হোসেনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।
এছাড়া একই দিন রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। মামলায় ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
আ. দৈ./কাশেম




















