দুদকের আবেদনে বিচারপতি খায়রুলস ৮জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির প্রধান কারিগর দুর্নীতিবাজ সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ মোট ৮জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ জারি করেন।
দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সংস্থাটির সদস্য (অর্থ ও এস্টেট) আইম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে আইন ও বিধিমালা অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ ও প্রদান করেছেন। এতে রাষ্ট্রীয় সংস্থার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বিশ্বাস ভঙ্গজনিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নামে এক সময় বাতিল হওয়া একটি আবাসিক প্লট পুনরায় কার্যকরভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত নির্ধারিত শর্ত ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে সুদ বাবদ নির্ধারিত ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা পরিশোধ ছাড়াই তা মওকুফের ব্যবস্থা করা হয়।
দুদকের মতে, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় সুদের অর্থছাড় দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ক্ষতি করা হয়েছে, যা দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল। আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা দেশত্যাগ করলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ জরুরি হয়ে পড়ে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আদেশ দেন।
আ. দৈ./কাশেম




















