এক বছরে বেড়েছে অভিবাসন ও রেমিটেন্সের গতি
বিশেষ প্রতিনিধি

আগের বছরের তুলনায় গত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৬২,৩১৭ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৫.৫ শতাংশ। তবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নারী অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ৪০.৯ শতাংশ কমেছে।
গন্তব্য দেশের দিক থেকে দেখা যায়, কার্যত প্রায় ৯০ ভাগ বাংলাদেশি কর্মী মাত্র ৫টি দেশে অভিবাসীত হয়েছেন এবং মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ (৭,৫৪,৩৬৯ জন) সৌদি আরবে গেছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এই বছরে রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার। রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ এর প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতে অভিবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১১,১৮,৩৪৪ জন অভিবাসী পোস্টাল ভোটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ বিগত অর্থবছরের চেয়ে এবার বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে। গতবছর ১১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো এবার সেটা ৮৫৫ কোটি টাকা। যেখানে অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিবাসন খাতে বাজেট বরাদ্দ ০.০৮ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে বাড়িয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।
অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিবাসন খাতে বাজেট বরাদ্দ ০.০৮ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে বাড়িয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।
অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকির চিত্র দেখা যায়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫,৪৭৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসী সমুদ্রপথে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। যা চলতি বছরে ইতালিতে আগত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।”
প্রওিতষ্ঠানটির নির্বাইহ পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দীকী বলেন, “অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সংস্কার, অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সির কঠোর তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারী অভিবাসীর সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।” এবং সৌদি আরবে তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক তাই মাঠ পর্যায়ে পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র, প্রশিক্ষক ও লোকবল বাড়ানো ও মনিটরিং এর প্রতি গুরত্ত্ব আরোপ করেছে।
প্রতিবেদনটি অভিবাসীদের সুরক্ষা জোরদারে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। অভিবাসন খাতে সুশাসন ও সেবার মানোন্নয়নে বিএমইটিকে একাধিক পরিদপ্তরবিশিষ্ট অধিদপ্তরে রূপান্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক ক্যাডার সার্ভিস চালু এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল শুধুমাত্র অভিবাসীদের প্রত্যক্ষ সেবায় ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের চেয়ারম্যান নিয়োগের পূর্ববর্তী ব্যবস্থা পুনর্বহাল, ব্যাংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সংসদ সদস্যদের রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিতকরণ এবং অভিবাসন খাতে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ বা বার্ষিক রেমিট্যান্সের ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য অভিবাসন খাতে তথ্যভিত্তিক ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জাতীয় শুমারিতে অভিবাসীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় আদায়কারীদের শনাক্ত করে পাঁচগুণ জরিমানার বিধান, নারী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে প্রয়োজনভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সিং কোর্স চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকামল দক্ষতা পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ট্র্যাকযোগ্য করা, নির্ধারিত ফি’র বাইরে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ফি বাংলা টাকায় নির্ধারণ এবং টিটিসি প্রশিক্ষণের মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও রেভিনিউ বাজেট বৃদ্ধি করে দক্ষ ও পেশাজীবী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও লেখক ড. শহিদুল আলম বলেন, “অভিবাসীদের শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। যে অভিবাসীদের থেকে সরকার আয় করে, তাদের জীবন সহজ করার জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেই। অথচ আমরা বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখি।” তিনি আরও বলেন, “অভিবাসীদের ভোটগ্রহণের জন্য আমরা এখনো পোস্টাল ব্যালটের কথা বলছি, যা ডিজিটাল যুগের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।”
আ.দৈ/আরএস





















